রেফ্রিজারেটর সংজ্ঞা
রেফ্রিজারেটর এমন একটি যন্ত্র যার ভেতরের ক্যাবিনেটে নিয়ন্ত্রিত
নিম্ন তাপমাত্রায় বিভিন্ন খাদ্য-দ্রব্য সংরক্ষণ করা যায় । এর প্রচলিত বাংলা নাম
শীতক । তবে সাধারণ মানুষ একে ফ্রিজ বলেই জানে । যে যন্ত্র বা ইউনিট এর আবদ্ধ
প্রকোষ্ঠ বা ক্যাবিনেটের তাপ অপসারণ করে পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা অপেক্ষা নিম্ন
তাপমাত্রায় রেখে খাদ্য-দ্রব্য সংরক্ষণ করা যায়, তাকে রেফ্রিজারেটর বলে। এটি
রেফ্রিজারেশন সিস্টেম এবং কতগুলো যন্ত্র বা যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে নির্মিত একটি একক
যন্ত্র বা ইউনিট ।
যেভাবে
কাজ
করে
কোনো বস্তুর
চারপাশে অবিরত
ঠাণ্ডা বাতাস
দেওয়া গেলে
সেটি শীতল
হয়ে পড়বে। এই ধারণা সামনে রেখেই তৈরি হয় রেফ্রিজারেটর।
প্রশ্ন আসতে পারে কেন ঠাণ্ডা হবে? উত্তর—এটাই প্রকৃতির নিয়ম, পদার্থবিজ্ঞানের
নিয়ম। নিম্ন তাপমাত্রার কোনো বস্তু উচ্চ তাপমাত্রার বস্তু থেকে তাপ শুষে নেবেই। এ কাজটিই কতটা সহজে ও কম খরচে করা যায় সেটিই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ।
১৯২০ সালে প্রথম আধুনিক ব্যক্তিগত রেফ্রিজারেটর বাজারে আনে মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক । তখন কম্প্রেসর ও কয়েলের অবস্থান ছিল রেফ্রিজারেটরের উপরি ভাগে।
পুরো পদ্ধতিটি হচ্ছে—একটি গ্যাসকে চাপে ও তাপে তরল থেকে বায়বীয়, ঠাণ্ডা থেকে গরম করার খেলা। এই গ্যাসকে বলা হয় রেফ্রিজারেন্ট।
স্বাভাবিক তাপমাত্রায় যা বায়বীয় পদার্থ। এটিকে প্রবল চাপে তরল করে রাখা হয়। কোনো বায়বীয় পদার্থকে চাপ প্রয়োগে তরল করা হলে সেটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। একইভাবে চাপ কমালে তাপমাত্রাও কমে যায়। আধুনিক রেফ্রিজারেটরগুলোতে টেট্রাফ্লুরোইথেন নামে একটি গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যা দুই ধরনের কয়েলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। খেয়াল করলে দেখতে পাবেন রেফ্রিজারেটরের পেছনের দিকে একটি কয়েল দেখা যায়। যাকে বলা হয় কনডেনসার কয়েল। আর ফ্রিজের প্রতিটি তাকের ভেতরে একধরনের কয়েল থাকে। এগুলোকে ইভেপারেটর কয়েল বলে। দুটি কয়েলের কাজ দুই রকম। ইভেপারেটর কয়েল ভেতরের গরম খাবার থেকে তাপ গ্রহণ করে আর কনডেনসার কয়েল সেই তাপ বাইরে ছেড়ে দেয়। রেফ্রিজারেন্ট পদার্থটি শুরুতে প্রবল চাপে তরল থাকে। রেফ্রিজারেটরের ভেতরের প্রবেশের আগে সেই পদার্থের চাপকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে সেটি তরল থেকে গ্যাসে পরিণত হয় এবং তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। ফলে ফ্রিজের ভেতরে গরম কিছু থাকলে সেটির তাপ বায়বীয় রেফ্রিজারেন্ট শুষে নিয়ে খাবারকে ঠাণ্ডা করে; তবে নিজে গরম হয়। এ জন্য চালু থাকা অবস্থায় রেফ্রিজারেটরের পাশে হাত দিলে কিছুটা উষ্ণতা অনুভূত হয়। এরপর উষ্ণ গ্যাস কমেপ্রসরে আসে এবং সেখানে সেই গ্যাসকে চাপ প্রয়োগ করে বাইরের কনডেনসার কয়েলে পাঠানো হলে সেটি মুক্ত বাতাসে তাপ ছেড়ে আবার তরল অবস্থায় ফিরে যায়। একইভাবে আবারও রেফ্রিজারেটরে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়া চক্রাকারে চলতেই থাকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে বাড়িতে থাকা রেফ্রিজারেটরের দুটি অংশে আলাদা আলাদা তাপ কেন? এর কারণ হচ্ছে একটি অংশকে আমরা বলি ডিপ ফ্রিজ, আরেকটিকে বলি নরমাল ফ্রিজ। মূলত ডিপ ফ্রিজের নাম ফ্রিজার ও নরমাল ফ্রিজের নাম হচ্ছে রেফ্রিজারেটর।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন